হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হযরত মাসুমা (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর পবিত্র মাজারে আয়োজিত এক ধর্মীয় জ্ঞানচর্চামূলক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে পবিত্র কুরআনের সূরা আলে ইমরানের ৭৭ ও ৭৮ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন নাসের রাফিয়ি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অঙ্গীকার ভঙ্গ, মিথ্যা শপথ এবং আল্লাহর বাণী ও দ্বীনের বক্তব্য বিকৃত করা—পবিত্র কুরআনে নিন্দিত ও গুরুতর অপরাধগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তিনি আল্লাহ তাআলা, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এবং আহলে বাইত (আলাইহিমুস সালাম)-এর নামে অসত্য বা ভিত্তিহীন কোনো বক্তব্য আরোপ না করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সূরা আলে ইমরানের ৭৭ নম্বর আয়াতের মর্মের প্রতি ইঙ্গিত করে ড. রাফিয়ি বলেন, যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথ ভঙ্গ করে এবং মিথ্যা শপথের মাধ্যমে সামান্য পার্থিব স্বার্থ অর্জন করে, তাদের জন্য কুরআনে কঠোর পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সম্মুখীন হওয়া।
তিনি আরও বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে শপথ করা নিজে কোনো কাঙ্ক্ষিত বিষয় নয়। তাই মানুষকে যথাসম্ভব শপথ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে মিথ্যা শপথ একটি গুরুতর গুনাহ, যার ভয়াবহ প্রভাব ও পরিণতি মানুষের জীবনে পড়তে পারে।
হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ি হযরত আলী (আলাইহিস সালাম)-এর একটি বর্ণনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, জুলুম, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং মিথ্যা শপথ—এমন কিছু গুনাহ, যার ক্ষতিকর প্রভাব ও পরিণতি শুধু আখিরাতেই নয়, এই দুনিয়াতেও মানুষকে ভোগ করতে হতে পারে।
এরপর সূরা আলে ইমরানের ৭৮ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সত্য বিকৃত করা এবং আল্লাহ ও দ্বীনের নামে অসত্য বক্তব্য প্রচার করাকে আরও কিছু গুরুতর গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কুরআনে এমন একদল মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যারা আসমানি কিতাব পাঠ করার সময় নিজেদের বক্তব্য তাতে সংযোজন করত এবং এমনভাবে তা উপস্থাপন করত, যাতে মানুষ মনে করত—এসব কথাও আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হয়েছে।
হাওযা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক দ্বীনি প্রচার ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, বক্তা, নাত-নাশিদ বা ধর্মীয় সংগীতশিল্পী, লেখক এবং ধর্মীয় অঙ্গনের অন্যান্য কর্মীদের কুরআনের আয়াত, হাদিস ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলি উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেন, যেসব বক্তব্যের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই, সেগুলোকে আল্লাহ তাআলা, মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) অথবা আহলে বাইতের (আলাইহিমুস সালাম) নামে প্রচার করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
আপনার কমেন্ট